—সিকান্দার বক্সের মতো আমি নিজেরে এই একই প্রশ্ন জিজ্ঞেস করি। আবেগে গদগদ দেখে নিজেরে শাসাই, 'ভালোবেসে ফেলিস যারে খুব, তার কাছে এতই সহজলভ্য, ঠুনকো কেন হয়ে যাস বারেবারে তুই! এত এত ঘটনায় অন্তে এসে এবার তো শুধরে যা বাপ!'
ভালোবেসে সহজে অন্যের আবেগের অংশীদার হই। আক্রন্ত হই। কিন্তু অন্যের আবেগে জড়িয়ে তার আবেগ হয়ে ওঠা বহু ক্ষেত্রেই ভালো কথা নয়। কালো কথা, কাজ-কম্ম, প্রতিবাদ, কান্না, ভালোবাসা আবেগে নামলেই বেগ বেড়ে যায়। আবেগ তখনই ন্যাকামো লাগে, যখন ভালবাসায় বাস্তবজ্ঞান জাগে। মাতাল, আবেগে বালিশটিকে ক্রমাগত চুমু খেয়ে জাগাতে চায়। বালিশ তো সেই থেকে মাটি, আবেগ তুচ্ছ করা মাটি।
তুচ্ছ আবেগেও গান আসে। আবেগ একবার গানের নাগাল পেলে আরও মজে যায়। আবেগ বেশি সংযত হলে গান হবে না, কিন্তু সংযত আবেগ হবে কবিতার! তাই সব গান কবিতা নয়। আলোক সরকারের 'উতল নির্জন' বইটি প্রসঙ্গে জীবনানন্দ দাশ চিঠিতে লিখেছিলেন,-- 'প্রীতিভাজনেষু, আপনার কবিতায় এত আবেগ কেন... আবেগকে সংযত করুন'।
আসলে আবেগের ভিতর থাকলে তার গান হওয়া যায়, কিন্তু আবেগকে চিনতে পারা যায় না। তাই খানিক দূরত্ব। নারী থেকে ফুলের দূরত্বে, নারী থেকে চাঁদের দূরত্বে তবু যাবো না। তারা তো প্রাকৃতিক নিয়মের, তারা এসব পারে না, নারী পারে চাঁদ-ফুল দুটোই সাজতে। তৈরি করা সৌন্দর্যের তো মৃত্যু নেই। যা নেই তাকে আবেগ অধিকার করলেও মৃত্যু কী করে অধিকার করবে?
বাস্তবিক জ্ঞানার্জন। ভালো থাকুন।
ReplyDelete— শতদল সাধুখাঁ