'ছোটবেলায় ড্রয়িং খাতায় যে সব ছবি এঁকেছিলাম,
সেই সবকটাতে একটা করে ঘর আঁকতাম।
রামধনু আমি খুব কম এঁকেছি।
যতবার এঁকেছি-- বেশি স্পষ্ট হয়ে গেছে।' —ঋপণ (39/A)
❑
এক
____
সমস্ত কুরিয়ার থেকে অনেক দূরে
শীতের মাঝামাঝি এখানে সস্তায় মাটি,
শক্তিমান লরি...বড় বড় পুকুর...আর
ক্রমশ পাড় ভাঙার শব্দ
পিওন গোবিন্দদা কখনও-সখনও
একটানা কাঠঠোকরার শব্দ রেখে যান
ঝুলবারান্দায়
❑
দুই
___
আমার দিক দিয়ে তাকালে গ্রামটাকে ভাবা যাচ্ছে লম্বুগাছ।
অন্যান্য গাছের মাথা ছাড়িয়ে অনেকটা,
অন্যান্য গাছের মাথা ছাড়িয়ে অনেকটা,
ঝড় এলে মাটি থেকে মাথার দূরত্ব যার
সব থেকে কম
❑
তিন
____
আমার ঠিকানার ডাকনাম খাসপাড়া।
হাবড়া ভ্যানস্ট্যান্ডও জানে। আমি সাইকেলেই...
গ্যারেজের মলয়দা অসংখ্য সাইকেলের মধ্যে
কী অদ্ভুত আমারটাকে চিনে নিচ্ছে!
না ফিরলে ঘরে তুলে রাখছে
ফিরতেই হয়... রবিবার, মাঘমাস, জ্যামভর্তি বছর
ব্যবহৃত তারিখের মতোই ফেরনি আর...
ব্যবহৃত তারিখ হয়ে থেকে গেছে
ভেঙে যাওয়া থার্মোমিটার
❑
চার
___
তার কোনও প্রমাণ নেই
সুতরাং মিথ্যেটাই সত্যি হল...জোরালো।
জোড়ায় জোড়ায় একই মাপের ভালবাসা,
পার্কটা পারফিউম হয়ে উঠছে
পারফিউম এলেই নাংলার বিলের প্রসঙ্গ আসে,
গন্ধেই ভগবান,
গন্ধের অতীত নৃশংস সুন্দর।
হে সুন্দর, রাতে দু'ঘন্টার জন্য কারেন্ট থাকে না—
বাড়ির সামনের বটতলা থাকে।
অশ্বত্থ গাছ, তবু লোকে বটতলা বলে!
এই অবচেতন মিথ্যা কাউকে কষ্ট দেয় না
তবে গাছের ব্যাপারে মানুষ দিয়ে তুলনা চলে না
❑
পাঁচ
____
ঝাঁপ খুললেই ছ’ফুট বাই ছ’ফুটের একটা জানলা।
কারও কোনও বিশেষ পরিস্থিতির দরজা, এই মুহূর্তে যেমন
চালভাঙা মেশিনের একটানা ঝাঁঝাঁ। এমনিতেই ঝাঁপ খুললেই
সরাসরি চোখে ঝাঁপিয়ে পড়ে চু-কিতকিত চুমুক নিয়ে
অশ্বত্থ আর পাখিদের শূন্যতা
অশ্বত্থ আর পাখিদের শূন্যতা
এয়ারগান নিষিদ্ধ হ’লেও
ভাইভাই দোকানে ঝুলতে গুলতি!
তারও অনেক আগে
গুলতি থেকে
বহু গান
লম্বু বাগান পেরিয়ে
পিয়ালীদের ছাদে
❑
ছয়
___
পিয়ালির জন্য হলুদফুলকে ভাবব না,
হলুদফুলের জন্যই পিয়ালি ।
বাড়ি থেকে বেরিয়ে গাছটি দেখেই মনে পড়ল
২৩শে জুন । অথচ
গাছটিতে একটাও হলুদফুল নেই
❑
সাত
____
বিগত কয়েক বছরে মায়ের অনেক চুল উঠে গেছে
উঠে যাওয়া চুল জমিয়ে ফিরিওলার কাছ থেকে
বিনিময়ে কখনও স্টিলের বাটি কখনও বা কাচের গ্লাস।
যার একটি গ্লাসে রোজ চা খাই আর ভাবি, লেবেল ক্রসিংটাই
পারস্পরিক ফারাক
নিজের আদলে নির্জনতা খুঁজতে গিয়ে দেখছি,
প্রত্যেক দাবির পেছনে থেকে যাচ্ছে একটানা গোয়ার্তুমি
আর প্রত্যেক ঘুমের পেছনে নানান মাপের মুন গ্লাস
❑
আট
____
সুযোগ বুঝে খামখেয়ালীরা ফ্যাতাড়ু
এই যেমন ঘুড়ি পেল গাছ
আর ডাকনাম পেল বাগান...
বাগানে ভাললাগে রোদ...নরম দুপুর...
পেড়ে ফেলা ঘোর আর ভাল লাগে না।
দিন কাটানোর সাপেক্ষে এই খেলা।
পিছিয়ে পড়া সম্পর্কে দাবি থাকলেও
ইচ্ছের কমে যাওয়ায়
ভাবনাগুলো রোগা হয়ে
শক্তির মুক্তি ঘটাচ্ছে
আমার এই একুশ বছরের রুদ্রপুরে
বাবুই পাখির বাসার ধরন বদলায়নি
অথচ টিকে থাকার আমরা বিবর্তনের অগোছালো!
পাখি ভাবনার সাথে আমরা
গোছানো পিপাসা কোনও কালেই এল না
❑
নয়
___
বিশ্বাস এখানেও পরভোজী। বনভূমি ভাসে শিরায়।
টিপতে টিপতে মধ্যরাত্রি ঘরের তুচ্ছতায় আদর হচ্ছে...
প্রকৃত আদরে শব্দ থাকে না।
বাতাসের বিনিসুতোয় ঘটনার রটনা অনেক,
অন্যের ঘটনা সহজেই গায়ে জড়াচ্ছে এখানে।
কোনও কাঠামোই নীলকণ্ঠ ফুলগাছ হচ্ছে না!
মুখ থেকে মুখে ঘুরে বেড়াচ্ছে সবুজ মাউথ অরগ্যান।
❑
দশ
___
সপ্তাহ দুয়েক আগেই স্বদেশবাবুর সঙ্গে পরিচয়,
শিয়ালদহ টিকিট কাউন্টারে । এক সঙ্গের গল্প নিয়ে হাবড়ায়।
তার নাকি রোজ আমার বাড়ির সামনে দিয়ে যাতায়াত ।
মিথ্যে মনে হল, কোনওদিনই আমি তাকে দেখিনি
অথচ পরিচয় হবার পর থেকে তাকে নিয়মিত দেখছি
❑
এগারো
_______
রাতের পর রাত রাস্তা ডিঙিয়ে ঘর !
টেবিলভর্তি ক্লোজ শট ছড়িয়ে রেখে
একটা বোবা সফরে...আমি ঘুমিয়ে গেলে
শেষ আত্মরক্ষা মশারি।
কী অদ্ভুত মশারির ভিতর থেমে যাওয়া
সময়টুকুই সম্পর্কের তলানি হয়ে থেকে যাচ্ছে
এগুলো তো দারুণ লেখা।
ReplyDeleteতোর এমন লেখা আমি কমই পড়েছি।
আশাকরি, এই সিরিজের কনটিনিউ ভার্সান তোকে একদিন পড়াতে পারবো...
Deletebha
ReplyDeleteThank you bhai
Deleteবাহ্। এই লেখাগুলি অন্যরকম মুগ্ধতা নিয়ে এল। এই বৈচিত্র্য ভালো লাগলো
ReplyDeleteতোমার ইদানিং লেখাতেও মজেছি। মুগ্ধ আমিও তোমাতেও।
Deleteসুন্দর বললেও কম বলা হয়
ReplyDeleteদেখা হলে কখন একটু বেশি বেশি ব'ল, ভালোবাসি। তদরূপ আমিও।
Deleteখুব ভালো লাগলো। খুব ভালো লেখাগুলি
ReplyDeleteআহা, প্রাপ্তি বন্ধু। ভালোবাসা জেনো।
DeleteKi sundor 🌷🌿
ReplyDeleteThank you man!
Delete
ReplyDeleteপিওন গোবিন্দদা কখনও-সখনও
একটানা কাঠঠোকরার শব্দ রেখে যান
ঝুলবারান্দায়
আহা...
পিয়ালির জন্য হলুদফুলকে ভাবব না,
হলুদফুলের জন্যই পিয়ালি ।
—মনে থেকে যাবে
কে আপনি না বুঝতে পারলেও আপ্লুত হলাম। ভালো থাকুন।
Deleteএখানে এইসব লেখা পাওয়া যাচ্ছে ? বাহ
ReplyDelete