Saturday, December 6, 2025
আমাদের শৈশবখানা ❑ ঋপণ আর্য
Monday, September 5, 2022
মগের মুলুকীয় স্বপ্নের বয়সের সেইসব ভাষাপাঠের অনেক শিক্ষক অথবা একজন ❑ ঋপণ আর্য
Monday, August 22, 2022
জানালা, নিভৃত উপার্জন... ❑ ঋপণ আর্য
Tuesday, August 16, 2022
ইমোজি সম্পর্কে দু-চার কথা; যা আমি ভাবি ❑ ঋপণ আর্য
Friday, May 27, 2022
মিথ্যেকথা ফেয়ার করতে বসে ❑ ঋপণ আর্য
ছেলেবেলায় একবার ‘ঘোড়ার ডিম’ দেখার শখ বাবাকে জানিয়েছিলাম। বাবা বাজার থেকে সেদিনই একটা কুমড়ো কিনেছিল। বলেছিল, ঘোড়ার ডিমটা নাকি সেই কুমড়োর মধ্যেই আছে। হেসে উড়িয়ে দিয়ে বলেছিলাম, কই আগে তো কোনো কুমড়োতে দেখিনি। বাবা বিশ্বাসযোগ্য ভঙ্গিতে বলেছিলেন, সব কুমুড়োতে থাকে না রে। সেদিনভর কত কতবার যে কুমড়োটা কাটতে তাগাদা দিয়েছিলাম। যতক্ষণ পর্যন্ত কুমড়োটা কাটেনি, ততক্ষণ পর্যন্ত ঘোড়ার ডিমের সাইজ, রং ও তার অবাক আমার ভেতর আনন্দময় ভাবনায় ছিল। সত্যিটা দেখার পরে ভাবনারা স্থির হলো... বেকুফ হলো... বোবা হলো।
আসলে সত্যির কোনো বানানো ব্যাপার নেই, যেমন খুশি সাজো নেই, রোদ বা রঙের চড়ে বসা নেই, কাসুন্দি নেই, কুয়াশা মাখানো নেই, পরিণামহীনতা নেই। কিন্তু মিথ্যের এসব আছে। মিথ্যে তাই সত্যির মতো একঘেয়ে নয়।
জীবনে যা হতে চেয়েও, বোঝাতে চেয়েও পারিনি, সেই সব হোঁচট খাওয়াদের মিথ্যে এসে একলহমায় জিতিয়ে দিল। এখান থেকে এখনো দিব্বি দেখা যাচ্ছে, সুখেনের বৌকে কেউ বোঝাতে পারছে না এক পাড়াভর্তি সংশয়, তার শাখা-সিঁদুর সুখেনের পাঁচ বছরের অনুপস্থিতিকে মিথ্যেই প্রতিরাতে সান্ত্বনা দিতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে।
মিথ্যের অভ্যাস একটা গোটা মানুষকে খেয়ে ফেলে, গোটা রাষ্ট্রকে খেয়ে ফেলে। যেভাবে জেহাদের নামে দক্ষিণী দুনিয়াকে তিলেতিলে খেয়ে ফেলেছে বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠী সম্প্রদায়। যে মানুষটা রাষ্ট্রীয়/ধর্মীয়/আর্থিক ক্ষমতায় সমৃদ্ধ, তিনি মিথ্যেয় জড়ালে তার মিথ্যেরা নাদুস-নুদুস সেই কালোমিথ্যে, যার কখনো সখনো অমরত্বও জুটে যায়। যেভাবে যুধিষ্ঠিরের মুখে ‘অশ্বত্থামা হত’ অমরত্ব পেয়েছে, মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতাও পিছিয়ে নেই।
তেমনি আবার যে ম্যাজিশিয়ান নিছক আনন্দদানেই মিথ্যে খরচ করে চলেছেন নিয়ত, তার মিথ্যেকে আমি সাদামিথ্যে বলব। কেননা এই মিথ্যে কারো ক্ষতিসাধন তো করে না। আমি তাই সেই ম্যাজিশিয়ান সেজে চারপাশের হাসিগুলোকে আরও চওড়া দেখতে চাই, দুঃখগুলোয় মিথ্যে মাখিয়ে দুঃখের ওজন কমাতে চাই। শান্তির বাবা মরে যাওয়ার পরও বিদেশের শান্তি মণ্ডলকে ফোন করে জানাই, তার বাবা অসুস্থ খুব, সে যেনও যত দ্রুত সম্ভব চলে আসে। আমি কোনোমতেই চাই না, সত্যিকথা শান্তির ঘরে ফেরার জার্নির ব্রেকফেল করুক। চাই না, শান্তি জীবন্ত লাশ হয়ে ঘরে ফিরুক।
সত্যি স্থির হলে যদি মানুষ লাশ হয়, মিথ্যে স্থির হলে সেই মিথ্যেটা ধীরে ধীরে সত্যি হয়ে ওঠে। কলেজে এ ওর ডাকনাম জানতে চাইলে নিজেই নিজের একটা ডাকনাম দিয়েছিলাম। কত্তদিন কলেজ ছেড়েছি। অথচ কলেজের সেই সময়কার বন্ধুদের বা স্যারদের সাথে দেখা হলেই সেই নাম ফিরে আসে। এমনকি ওই ডাকনামের অন্য কেউকে শোনার পরিধির মধ্য থেকে কেউ একজন ডাকলেই আমারও সারা দেওয়ার প্রবণতায় মুখ ফিরে যায়।
ডাকতে ডাকতেই একলব্য একদিন মিথ্যের মধ্যে সত্যিকে সাধনায় পেয়েছিল। সেই মিথ্যের দোহাইয়ে নিজের বুড়ো আঙুল খসিয়ে হাসতে হাসতে দ্রোণাচার্যের চাহিদাও মিটিয়েছিল। দ্রোণাচার্যের ছল একলব্যকে মহৎ করেছে। কিন্তু অর্জুনকে কি খাটো করেনি একটুও? সেই ছলচাতুরীই কি যুধিষ্ঠির মাধ্যমে কুরুক্ষেত্রের ময়দানে দ্রোণাচার্যের সম্মুখে ফিরে এসেছিল? এই যে সমর্থন খুঁজতে, মিল খুঁজতে বসে গেলাম। মনের সমর্থনে মিলেও গেলাম বন্ধু যত। আবার মিল ভাঙিয়ে ছেড়েও গেলাম অনেকে। অথচ তাদের তো শেকড়ওয়ালা বন্ধু ভাবতাম, যাদের সাথে কতদিনকার কত কত সত্যি-যাপন। সেসব সম্পর্ক একলহমায় মিথ্যে হয়ে গেল! তাহলে কি অনেকগুলো সত্যি দিয়ে একটা মিথ্যে রচিত হলো? অথবা, মিথ্যের এতটাই জোড় যে জোরালো সত্যিদের খাটো করে দিল নিমেষে!
সক্রেটিসের সমাজে, গ্যালিলিওর সমাজে উভয়ে মিথ্যে ছিল। মানবধর্মের চোখে জাতপাত, বর্ণভেদ, শুচিবাই মিথ্যে। অপির চোখে আমি মিথ্যে। আমার চোখে অনুপম মিথ্যে। অনুপমের চোখে মলিনা মিথ্যে। মলিনার চোখে অতনু মিথ্যে। অতনুর চোখে ভূত মিথ্যে। কিন্তু এক পূর্ণিমার মধ্যরাতে দূর গ্রাম থেকে ফেরার পথে মাঠের আলের পাশের গাছে একটা গোটা শরীরকে ঝুলতে দেখে অতনুরও ভূত খেয়ালে এসেছিল। ঝুলন্ত শরীরটা যখন কেঁপে কেঁপে উঠছিল দূর থেকে ভূত ভাবনারা সত্যি হয়েছিল। অতনুর একার তখন সাহস ছিল না। আমরা সঙ্গে থাকায় সত্যি-মিথ্যে যাচাই জোট বেঁধেছিল। তাই গাছটির কাছাকাছি যেতেই বোঝা গেল, নাদুসনুদুস একটা কলাগাছ। যার একটা শুকনো পাতা ডগা মচকে ঝুলে আছে। জ্যোৎস্না যাকে সাদা কাপড়ে জড়িয়েছে। আর হাওয়া এসে দোলাচ্ছে জ্যোৎস্নার সেই ছলনা।
সুন্দরী ছলনা জানে। সুন্দর সে ছলনা ধুমধাম পালন করে। আলোবাজিসহ কেক কাটে। আমিও তার দেখাদেখি দোকান থেকে কয়েক ছটাক মিথ্যে কিনে আনি। সতেজ গুচ্ছ ফুলের ভেতর প্লাস্টিকের ফুল গুঁজে এনে সে তোড়া প্রিয়জনের হাতে তুলে দিয়ে বলি, এই সমস্ত ফুলের শেষ ফুলটা যতদিন না শুকোবে ঠিক তত দিন পর্যন্ত সঙ্গে থাকব। প্লাস্টিক, যা ফুলের স্বভাবধর্মের মিথ্যে। আর এই মিথ্যের কোনো শুকিয়ে যাওয়া নেই। আর শুকিয়ে যাওয়া নেই বলেই পপ গায়িকা বিটনিস্পিয়ারের চিবোনো চিকলেট নিলামে বিক্রি হয়। অদ্ভুত! মিথ্যে সান্ত্বনায় মিছিমিছি কত খরচ! মিথ্যে সান্ত্বনায় আমিও মূল্যবান খরচ ভেবে নেটডেটা রিচার্জ করে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপে মুখ গুঁজছি... প্লাস্টিকের ফুলে মুখ গুঁজছি। বাবা বলেন, ‘এসব আসলে মনে মনে কথা বলার সময় ও সুযোগগুলোকে হরণ করেছে। আগে তোর মাকে কত দীর্ঘ অদর্শনের ফাঁকফোকরে পথে-ঘাটে, চিঠিতে সত্যি-মিথ্যের জাল বুনতাম, আর এখন...’
আমার দাদুকে মনে রাখার মতো বয়সে কখনও মুখোমুখি দেখিনি। কিন্তু বাবাকে লেখা তাঁর সেই চিঠি দেখেছি, যেখানে ছোট্ট আমাকে নিয়ে কয়েক লাইন লেখাছিল। সেই যাপনের বড় পুরস্কার, স্পর্শ অর্জন, যার কলম বদলালেও, রিফিল বদলালেও হাতের লেখার স্পর্শরা একটুও বদলায়নি... বদলায় না। অথচ আমার চারপাশ আমাকে নিয়ে কত্ত বদলেছে! তোমার সঙ্গে মনে মনে কথা বলায় তোমার উত্তরদেরও ইচ্ছেখুশি ভেবে নেওয়া আর যাচ্ছে না। তাই ভিড় বাসেও তোমার থেকে বিদায় নেবার পরেও তোমার কণ্ঠের অনুযোগ, হাসিতে মনটাকে ফোনে তুলে রাখি। তুমি সত্যি-মিথ্যে যাই বোঝাও, আমি সত্যি-মিথ্যে যাই বোঝাই অবিশ্বাসের আর কোনো উপায় দেখতে পাই না। দেখতে পাই সুমিতেশ দা’র সেই কবিতাটিকে,
'আজ এমন একটা মিথ্যের শহরে ঢুকে পড়ছি
যেখানে গাছপালা, বাড়িঘর, রাস্তাঘাট
মিল্কবুথ, পেট্রলপাম্প, রেস্তোরাঁ... জাগতিক সমস্ত কিছুই মিথ্যে :
তো এমন একটা মিথ্যের শহরে
আমার মতো এক মিথ্যে বিকেলের সাথে
তোমার মতো এক মিথ্যে সন্ধ্যার দেখা হলে
আমরা যে সেইসব মিথ্যে কথাই বলব
এ-বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।'
Monday, April 5, 2021
অশ্রুতরবার, ফুলেল অনুভূতি ❑ ঋপণ আর্য
Sunday, November 15, 2020
ব্যথার সংসার,কী বুঝতে যে কী বুঝলো! ❑ ঋপণ আর্য
Sunday, November 8, 2020
এতো আবেগ ক্যা রে! ❑ ঋপণ আর্য
Thursday, July 23, 2020
কবিতার সত্যি... কবিতার মদ... ❑ ঋপণ আর্য
'আমি বৃষ্টিমুখর দিনে প্রায়ই সাহেববাঁধের পাড় ধরে হাঁটি, গান গাই, আর পৌঁছে যাওয়ার চেষ্টা করি কোথাও। কিন্তু পারি না। একজন শিল্পী কোথাও পৌঁছোতে পারেন না। তিনি শুধু রওনা দেন মাত্র। '
❑
কে বা কারা যেন আমার ভিতরে রোজ বাজার বসায়। অনেক কিছুর সঙ্গে তারা আমাকেও একটু একটু করে বিক্রি করে। তবু এখনও যেকোনও সম্পর্কের শুরুর আগে স্পর্শের কথাই ভাবি, কবিতা লেখার ক্ষেত্রেও। ছেলেবেলা থেকে পড়াশুনার অভ্যাসটা ঢোকে কমিকস থেকে। কতদিন যে বাবার পকেট থেকে টাকা ঝেড়েছি গল্পের বই কেনার জন্য...ইয়ত্তা নেই। বাবা আমার ধীরে ধীরে বন্ধুজন। তিনি বলতেন, তার সময়-অসময়কে আমার বুঝতে হবে। বুঝেছি যতটা শিখেছি মাত্রাতিরিক্ত। মন্দরাও হুড়মুড়। আমার পড়াশুনা একেবারে পাতি লেবেল থেকে উঠে আসা। অখাদ্য পেলেও গিলতাম। তবে পাঠ্যের বাইরে বিস্তারিত ভাবে প্রথম কবিতাপাঠের ঘটনা অদ্ভুত, তখন ক্লাস সেভেন, লক্ষ্মীপূজার দিন বাবা আমাকে ১০টাকা দিয়েছেন বাজি কেনার জন্যে, আমি বাজারের পুরনো বইয়ের দোকান থেকে ৩টাকা দিয়ে জীবনানন্দের ‘ধূসর পান্ডুলিপি’ কিনে ফেললাম। বাকি টাকাগুলো খরচের সঙ্গে মনে থাকার মতো আরও কতকিছুই যে মনে নেই অথচ কী অদ্ভুত সেই ৩টাকা খরচের কথা এখনো মনে আছে!
ক্লাস নাইনে হুমায়ুনের ‘হিমু’ পড়েই হিমু অ্যাডিক্টেড হয়ে যাই। হিমুর মতো গভীর রাতে রাস্তায় বেরিয়ে পড়তাম, ভালো লাগাদের মুখস্ত করতাম। অনেকে বাবার কাছে নালিশ করেছিল। একবার তো পুলিশে ধরেছিল, হয়ত চেহারার মায়ায় পড়ে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে গেছিল। ঝাড়টা দিয়েছিল বাবাকে। তবুও বাবা আমাকে কিছু বলেননি। বাবাকে মাঝে মাঝে আমার ঈশ্বর মনে হয়। তারপর থেকে বাবার সঙ্গে আমি আমার স্বপ্নদোষ সহ সমস্ত দোষ শেয়ার করি। ইলেভেনেও বরুণদার কাছে ইংরাজি পড়তাম, লেখালেখির উৎসাহে কত বই যে পড়াতেন! বরুণদার প্রতি শ্রদ্ধা আমার ভয় বরাবর। তাই পড়ার ব্যাচে দাদার খানিক দূরে এককোনায় চুপচাপ থাকতাম। আমার চুপথাকা একজনকে পেয়ে বসেছিল। যেভাবে খাতাগুলো হাত ঘুরে ঘুরে বরুণদার কাছে পৌঁছায়, ফিরে আসার পথও অনুরূপ। এই ফিরে আসার পথেই একদিন সে খাতার ভেতর চিঠি দিয়েছিল, চিঠিটিতে তার নাম ছিল না! নোটের জেরক্সের অক্ষর মিলিয়ে নাম আবিষ্কারে আনন্দ হয়েছিল খুব, নিজেকে তপসে তপসে লাগছিল। কিন্তু কোন ফেলুদাকে শোনাই?... বাবাকে বলেছিলাম। না, সেই চিঠির সম্পর্কে আর জড়াইনি। মনের সমর্থন না এলে কীসের মীমাংসা? ‘মদ ও জুয়ার চেয়ে ঢের বেশি নেশা হয় মন ছুঁয়ে দিলে ’। মনটা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রাধান্যে যায়, প্রাধান্য চায়। যে ছোঁয়াগুলোয় ভেতরটা শীত শীত করে, তাদের দিকে এগোয় ভালো থাকা। ‘সবাই নয়, /কেউ কেউ ভালোবেসে হাত ধরলে চোখে জল আসে। ’
আদতে চোখের নিশপিশ জুড়ে যাচাই... যা চাইও বটে। আমাদের বাড়ির পাশে বল্টু নামের একজনের দু’বছর যাবৎ খোঁজ ছিল না। তাকে নিয়ে তার বাড়ি ও আমাদের বহুত গল্প জমত। যেই দু’সপ্তাহ আগে জানা গেল সে ছ’মাস হল মারা গেছে অমনি তার বউ বিধবা হল। সবাই ভুলে গেলাম... মাত্র দু’সপ্তাহে! কী অদ্ভুত জোকস! অমনি হুড়মুড়িয়ে বেরিয়ে এল, ‘নিরাশার কোনও মায়া নেই ’। —‘নিরাশা’ এখানে যেন সেই নির্দিষ্ট বয়স্ক মানুষ, যার মৃত্যুতে কারও কোনও শোক থাকে না। অথচ জেগে থাকায় ইচ্ছের মৃত্যু নেই! তাই না-থাকা রঙে রেঙে উঠতে লাগল যাপন। আসতে লাগল অজস্র প্রশ্ন। কে যেন বলেছিল, একটা উত্তর যতটা প্রাসঙ্গিক, প্রশ্নটা তার হাজার গুণ বেশি প্রাসঙ্গিক। তখন থেকেই যাপনের প্রশ্নগুলো টোকা শুরু। প্রচুর চিঠি লিখতাম বন্ধুদের। তাদের হিসাবে চিঠিগুলো নাকি কবিতার আদল। কবিতা লেখা তাহলে সেই থেকে। সেই থেকেও কবিতা আমি বহুক্ষেত্রে বুঝি না, তুমি আমার সঙ্গে আছ জেনেও যেমন বুঝি না তোমাকে। পরে যাপনের আপনে মিলে গেলে আবিষ্কারের আনন্দ। অনেক সময় পাঠ সঙ্গে-সঙ্গেই মুগ্ধতা হেতু আক্রান্ত হই। অনেক সময় মুগ্ধতার ব্যাখ্যা নেই, অন্তরযাপনে জাড়িত। অন্তরযাপন কি বড্ড ছায়াকেন্দ্রিক? আমাদের সব পাঠ্যকে ছাপিয়ে যাচ্ছে আলো আর অন্ধকার। যাপনের তাহলে দোষ কই?... ‘যে আলোটার জন্য আমার ছায়া ছুঁয়ে আছে / তোমাকে, ছায়াটা ঠিক কতখানি তার? / এই যে আমরা সূর্যের ছায়া বলি, চন্দ্রের ছায়া বলি / তা সত্ত্বেও দীর্ঘ প্ল্যাটফর্ম জুড়ে ট্রেনের ছায়াই তো বলি। '
ছায়াটা সঙ্গ দেয় বলেই বছর বছর এত স্যাডগান হিট হয়। ছায়াটা সঙ্গ দেয় বলেই এত বিষাদ পদাবলি। নিজেকেও মাঝে মাঝে বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো মনে হয়। আমার সঙ্গে তখন দিনও কথা বলে না... রাতও না। পৃথিবীটা জমাটবাঁধা চোট হয়ে যায়। যদিও নিঃসঙ্গ কাজ করে যাওয়ার মধ্যে এক ধরনের মদ আছে... শক্তি আছে, একা থাকার শক্তি... একা লেখার শক্তি। ‘একটা সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া মানেই / আরো একবার নিজের কাছে ফেরা। ' —এই ফেরাটা কখনও বুঝে ফেরা, কখনও না বুঝে। আমারও মনে হয় সব বোঝাগুলো আসলে সময় নির্ভর। ঠিক সময়ের আগে পর্যন্ত সেগুলো ভারি বোঝা হয়ে টেকে। উদাহরণই ভাল ব্যাখ্যা হতে পারে। সেদিন শিয়ালদহ থেকে ট্রেনে করে হাবড়ায় ফিরছি, সঙ্গে শিমুল। দু'জনেই জানালার কাছে এবং মুখোমুখি। বিধাননগর ছাড়তেই ভিড় বাড়ল। আমার আর শিমুলের কথার মাঝে একজন ভদ্রলোক বারবার এসে দাঁড়াচ্ছিলেন। কথা বলার সময় তার সাইড দিয়ে মুখ বের করে কথা বলতে হচ্ছিল। আচ্ছা, কথা বলার সময় মুখ দেখাটা কি খুব জরুরি? মুহূর্তে একটি কবিতাকে সত্যি হতে দেখলাম,— ‘লাইটা /জ্বেলে দাও / কথাগুলো দেখতে পাচ্ছি না। '
❑
গত রাতে সম্বিতকে sms করেছিলাম,— ‘কবিতার ক্লাইমেক্স বলতে কী বুঝিস?’। উত্তর এল,— ‘এই বাঞ্চোত, ঘুমো’। উত্তরের এই অংশটুকু ভাস্কর চক্রবর্তীর ‘ঘটনা’ কবিতার সেই অন্তিম লাইন যখন রাত্তিরবেলা আলো জ্বালিয়ে কবি লিখছিলেন ছোট্ট ঘরে বসে। ঠিক তখন ‘রাস্তা থেকে কে যে বললো;/এই বাঞ্চোত, ঘুমো ’। এরকম চমকে যাওয়ার মতো শেয়ার যাদের কান ঝাঁজিয়ে দিল, তাদের বিশেষ ভাবে বলব, মুহূর্তের উপর চোখ রাখতে। আমরা ভীষণ মুহূর্ত নিয়ে বাঁচি। আমার এক বন্ধু বলত, সময় ও ঈশ্বর সমানুপাতিক। অমনি ভাবতে শুরু করেছিলাম, মুহূর্ত ভিন্ন অন্য কিছুতে ঈশ্বর দর্শন নেই তাহলে!!! ‘সময় বলতে সত্যি কিছু কি বোঝায় ! / মুহূর্ত দিয়ে তোমায় ধরে রাখি / জানালা আমার নিভৃত উপার্জন / তোমার তুলনায় তাই বারবার জানালা এসে যায়। '
‘তোমার তুলনা তুমি’র মতো জানালার তুলনায় জানালাওয়ালা সেই শোনা শর্টফিল্মের গল্প এই মুহূর্তে আমার কাছে ভাবানুবাদ হয়ে এল। একটা বেশ পুরনো বাড়ির একটি কক্ষে দেওয়ালের যে দিকটায় জানলা সেখানে আরামকেদারায় আধাশায়িত একজন ৮২, চোখে গাঢ় পর্দার চশমা, সময় তবু ঝাপসা যেখানে। কাছাকাছি বিছানায় বসে খবরের কাগজ পড়ছে ২৫-এর যুবক। এইমাত্র জানালাটিতে একটি কবিতা এসে বসলো। বৃদ্ধ চেল্লালেন,— ‘কী ওটা?’। ছেলেটি পেপার থেকে চোখ তুলে বলল,— ‘চড়ুই’। এবার কবিতাটি জানলা থেকে ঘরে ঢুকেই টেবিলে এসে বসল। বৃদ্ধ ফের চেল্লালেন,— ‘কী ওটা?’। ফের নিজস্ব মনোযোগ থেকে চোখ সরিয়ে গাঢ় স্বরে ছেলেটি বললো,— ‘বললাম তো, ওটা চড়ুই, চড়ুই পাখি’। কবিতাটি টেবিল থেকে কিচিরমিচির শব্দ করতে করতে বন্ধ সিলিংফ্যানের একটি ডানায়। বৃদ্ধ হাঁ করে তাকিয়ে— ‘কী ওটা?’। ছেলেটি বিরক্তিতে— ‘কী সমস্যা! বললাম না ওটা চড়ুই, তুমি একটু চুপ করবে?’। এবার হয়ত কবিতাটি নিজে এই বিবাদের বিষয় বুঝতে পেরে বৃদ্ধের খুউব কাছে, আরামকেদারার ডালে একটু বসেই ফের উড়লো— ‘কী এটা?’...। পেপারটা রোল করে বিছানায় সজোরে কোপ বসাল ছেলেটি এবং চেল্লাল— ‘সেই থেকে বারণ করছি, বারবার একই কথা, যাও বাইরে যাও... যাও...’। কবিতাটিকে আর দেখা যাচ্ছে না। দেখা যাচ্ছে; বৃদ্ধ কক্ষ থেকে বেরিয়ে পাশের কক্ষে ঢুকছেন। ঘরভর্তি বৃদ্ধের বিভিন্ন কালের কেনা বই ডাই দেওয়া। তাদের মধ্য থেকে লাল মলাটের একটি পুরনোকে তুলে নিলেন। ফের পূর্বের কক্ষে ফিরে এলেন। ছেলের বিরক্তি উপেক্ষা করে বৃদ্ধ পিতা একটি নির্দিষ্ট পাতা মেলে এগিয়ে দিয়ে বললেন,— ‘পড়ো তো...। পড়ে আমাকে শোনাও...’। ছেলে দেখল, পুরনো ডাইরির সেই পাতাটাই খোলা যেটা তার জন্ম দিনের তিন বছরে পা। পড়তে আরম্ভ করল,— ‘আজ খুউউব আনন্দের দিন। নানান মাপের মজাদার কান্ড ঘটেছে। সবচাইতে মজাদার হল, আজ খোকা একটা চড়ুই পাখি দেখে বাইশ বার জিজ্ঞাসা করেছে, আমি হাসি মুখে প্রতি উত্তরের সঙ্গে একটি কারে চুমু খেয়েছি।’—এখানেই গল্পটা শেষ। বিক্রিয়াটা শুরু। চড়ুইটি জানলায় বসার পর থেকেই কবিতা হয়েগেছে। ছেলে বুঝতে পারেনি। বাবা বুঝতে পেরেছে স্রেফ অনুঘটক হিসাবে। কবিতা কি তাহলে অনুঘটক? ...কিন্তু গতি যার কোথাও কোথাও প্রধান লক্ষ্য নয় তো! অনেকটা ম্যাজিকের সরব উপস্থিতি। যাতে করে উপলব্ধির সজাগে ধাক্কা খায় মন কেমন করা হাওয়া।
আমার প্রাইমারি জীবনে ‘বড় হয়ে কী হতে চাই’ রচনায় লিখেছিলাম ম্যাজিসিয়ান হওয়ার ইচ্ছে। গোটা স্কুলবাড়িটাকে ভ্যানিশ করে দিয়েছিলাম। গভীর প্রচেষ্টায় টুকরোটাকরা ম্যাজিক আত্মস্থও করেছিলাম। তাক লাগাতে পারতাম বাবাকেও। সেই সব ম্যাজিকদের এখনো কাজে নামতে দেখি! বাচ্চারা খুব সহজে পটে যায়, কাঁধে চড়ে। তাদের কেউ কেউকে নতুন ডাকনাম দিই, কার্যকরও হয়। সেই সব কেউ কেউ বড় হলে সেই সব ডাকনামে ডাক শুনবে না?! আমারও ডাকনাম জুটেছে বিস্তর। কলেজে প্রথমের এক আড্ডায় বন্ধু সাইরুল (যার ডাকনাম সিন্টু) আমার ডাকনাম জানতে চাইলে তৎক্ষণাৎ নিজের একটা ডাকনাম দিয়ে বললাম, দুষ্টু। নামটা আমাদের ছোটখাটো কলেজটায় ছড়িয়ে গেল। এখন যে কেউ আমার শোনার পরিধির মধ্য থেকে দুষ্টু নামে ডাকলে আমার খেয়াল তো সেদিকে দৌড়াবেই। একটা মিথ্যে কী করে সত্যি হল!?... ভাবতে গিয়ে এক পঙতি হলাম,— ‘মিথ্যে মানতে মানতে এখন পুরোটাই সত্যি !'
‘আছে’ অর্থে যতটুকু সত্যি বাঁচে, ‘ছিল’ অর্থে তার অধিক বেঁচে থাকছে। পাঁচ বছর আগে বিধান নগর স্টেশনের কাছেই একটি চায়ের দোকানে তখনকার একটি টিফিন ক্যারিয়ার হারিয়েছিলাম। আজ কোনও এক কারণে মায়ের বকুনিতে উঠে এল সেই টিফিন ক্যারিয়ার! সঙ্গে মায়ের আফসোস, ‘আমি কেন এত হারাই?!’ অথচ টিফিন ক্যারিয়ারটি না হারালে বড়জোর আর এক বছর টিকত। হারিয়ে যাওয়ায় তার আয়ু যেনও বৃদ্ধি পেল। সেই হিসাবে বছর সাতেক আগে দিঘায় হারানো রিপার প্রিয় গামছাটাকে এখানও চোখের সামনে ঝুলতে দেখি। ‘হারানোর আপসোসে জীবন খানিক রুচি নির্ভর হল / হারানোর পুণ্যে কোনও কিছুই আর জরুরি থাকছে না !’
তবুও আপসোসটাকে জরুরি ভাবছি কেউ কেউ। হাবড়া স্টেশনে সন্দীপদা চায়ের ভাঁড়টি তুলতে তুলতে সেদিন বলেছিল, ‘তোদের কবিতা বুঝি না কেন রে? রবীন্দ্রনাথকে তো বেশ বুঝতে পারি’। পরিহাসে না গিয়ে তার কাছে ‘গীতাঞ্জলি’র দুটো লাইন বুঝতে চাই,— ‘তোমায় আমার প্রভু করে রাখি / আমার আমি সেইটুকু থাক বাকি ’। তার চুপ থাকায় আমি গল্পসহ মজাদার খেলা বসাই। বলি, ‘চলো, তোমার কাছে একটা কবিতা সহজ করি। এই যে তুমি মাটির খুরিতে চা খাচ্ছো; কাচের ছোটো-ছোটো গ্লাসে চা খেয়েছো কখনও?’ সন্দীপদার সম্মতিসূচক মাথা নাড়ানোতে ফের শুরু করলাম,— ‘ধরো এই মাটির খুরির উপরে সেই ছোট্ট একটি কাচের গ্লাস রাখা হল তার উপরে আবার মাটির খুরি...তার উপরে ফের কাচের গ্লাস… আবার মাটির খুরি… কাচের গ্লাস… মাটির খুরি… কাচের গ্লাস… মাটির খুরি...। এই ভাবে একটার উপর একটাকে বসিয়ে যেতে যেতে বিরক্তি সন্দীপদার মুখে খিস্তিসহ বাক্য গঠন করল—‘ধুর বাল, এটা কি কোনও কবিতা হল নাকি?!’ এবার ধরনাটাতে সেই খেলাটাই খেল্লাম যেটা আমার সাথেও অনেকে খেলেছে। বল্লাম— ‘সন্দীপদা, তুমি শুধু গ্লাস আর খুরিগুলোকে দেখলে?? এই যে এতক্ষণ ধরে একটার উপর একটা কী দারুন সুনিপুণভাবে একত্রে সাজালাম তার ব্যালান্সটুকু দেখলে না!!
‘তোমার সাপেক্ষে আমি ঢেউ / তোমার সাপেক্ষে আমি কেউ নই / ভায়োলিন ছাড়া ’ —আসলে বাইরের রূপের সাথে অন্তরের বুঝের মিল হওয়া খুব মুশকিল। বাইরের রূপের গায়ে বুদ্ধি খুব সহজে এসে জড়ায় আর ভেতরে থাকে আধ্যাত্মিকতা। এ বেটা এমনই যে জয় পরাজয় মানে না। কিন্তু সন্দীপদা যে পরাজয়টা মেনে নিতে পারেনি তা তার তর্কে পরিস্কার হল। তর্কে ট্রিপ পাবনা বলে হেরে গেলাম। জ্যোতিষ শাস্ত্রে বলা হয় যে, ‘মানুষের পাওনা তার উপর সময়ের প্রভাব দ্বারা সূচিত’। সেই হেতু সন্দীপদার আদলে নয়, নিজের আদলের মধ্যেও আলো পরিমাণ আধার আছে। আছে আমার পুরনোর সঙ্গে নতুনের এক অপরাধ বোধের ফারাক— ‘এসেছি খুনির মত চুপচাপ কতবার কত /পুরনো লেখার কাছে / নতুন লেখার গায়ে দেখ আজ / অপরাধী অশ্রু লেগে আছে। ’
এই চিরাচরিত আমরা পুকুরের সাথে টুকুরকে আনি। সেই হিসাবে পথের সঙ্গে ঘাট। আমরা মিলে গেলে যে কী আনন্দ পাই! আমিও লক্ষ্য করে দেখেছি, যাপনের মিলেরা বরাবর বন্ধুনির্বাচন করে আসছে। অনুপম রায়, চাঁদপাড়া আর্ট কলেজে তুষারের ক্লাসমেট ছিল, থাকত অশোকনগর। বোধহয় তুষারের পাল্লায় পড়ে কবিতা ভালবাসতে শুরু করেছিল। আমিও শোনাতাম মাঝেমাঝে। একদিন তার আঁকা পাঁচ ফুট বাই পাঁচ ফুটের একটা ছবি স্টেশনে নামাতে গিয়ে ভেঙে গেছিল। তারপর আরেকদিন একটি কবিতা শুনতে গিয়ে চমকানো আনন্দ পেয়েছিল খুব,— ‘ছবি ভাঙে না, কাচ ভেঙে যায়।’
এই যে কাঁচ ভেঙে গেল; ফলত ছবিটি সুবিধেহীন হল। সংকটমূলক আপসোস এল। মূলত আমাদের সুবিধের প্রয়োজন, আমাদের সকল কিছুই সুবিধার পানে। আমাদের যারা রক্ষক তারাও এই মহান সুবিধা-কর্মে আমাদের রেখেছেন। আমাদের কাল ফুরলে সুবিধার বহুবর্ন ইউনিফর্মটি অন্যের গায়ে তাঁরাই চড়িয়ে দেবেন, দেরি করবেন না। ‘সুবিধে’ কখনও ফেলে রাখতে নেই, বিস্ফোরণের সম্ভাবনা। সম্ভাবনা প্রসঙ্গে বরাবর দেখেছি অনুমান দায়ী,— ‘ঐ শিশুটি কি জানে, / পৃথিবীর কোনও সত্যই শেষ সত্য নয় /শব্দ লেখা হয় অনুমানে। ’
অনুমান; তবু তা নিয়ে কত দাপট আসছে, কত দম্ভ! অথচ জীবন মানেই তো জল, তাই হয়ত লেখালেখিকে বরাবর ঐ জলে দ্রবীভূত ডাঙা ভেবে আসছি। তৃষ্ণা মিটেছে কারো শুনিনি এখনও। অথচ আয়ু থেকে বয়স বসার সাথে সাথে জীবনের নানান নাচ, গান, ভায়োলিন বাজানো, ছবি আঁকা, ভালো রাখার কিছু সম্পর্ক সব ছেড়েছে আমায়। কী অদ্ভুত, কবিতা লেখা বহুত লক্ষ্য বদলেও সঙ্গে! আসলে কষ্টটা নিজের হলে কাউকে বিশেষ বোঝাবার থাকে না। প্রত্যক্ষ করি,— ‘নিজেকে নিজের থেকে বেশি আর পাব না কাউকে ’। তাই তার ঝাঁজ কমানোর জন্য লেখাতে উগরাই। আমার নাকাল যত বাড়ে তার ঠেকনায় নামাই আমার নকলকে। আমাকে নকল করে লেখা...। তারা আমার এমন সব সন্তান তাদের ক্ষমতাকে বাড়তে দেওয়া জারি থাকে ।
কবিতার ক্ষমতা প্রসঙ্গে কেন জানি না সেই ঘটনাটি উঠে এল। একদিন বাড়িতে এক সন্ন্যাসী এলে বাবা জিজ্ঞাসা করলেন,— ‘আপনার সন্ন্যাস জীবন কত দিনের?’ সন্ন্যাসী বললেন,— ‘২০ বছরের’। বাবা বললেন,— ‘এমন শক্তি কি অর্জন করতে পেরেছেন যে ওই দূরের লাঠিটা এখানে বসে থেকেই এখানে হাজির করবেন?’...সন্ন্যাসী মাথা নড়ালেন । —‘আমি পেরেছি, দেখবেন?’ বলেই বাবা ডাক দিলেন আমাকে। আমি তার একমাত্র পুত্র । কবিতার এহেন ক্ষমতার কথা শুনে প্রিয় সুকুমার খিক করে ফিসফিসালেন,— ‘ফুল ফোটে? তাই বলো ! / আমি ভাবি পটকা!’
লেখালেখি আদতে অপেক্ষার পটকা। ফোটার পুরোটা তো ক্লাইমেক্সেই ঘেঁটে আছে। এই যেমন, আমার ফোনে কনফারেন্সে পিকা, সম্বিত পাক্কা এক ঘন্টার উপরে! কোনও মেয়ে নেই! ভাবা যায়?! পিকা বলছে, ‘কথাগুলো রেকর্ড করা দরকার ছিল’। সম্বিত বলছে, ‘চূড়ান্তটা এখানে চূড়োন্ত হবে’। কেয়া বাত। চূড়োন্ত আসতেই মাথায় ক্যাপ্টেন তন্ময়ের মামাবাড়ি এলাকায় জীবনের প্রথম সরব বুদ্ধপূর্ণিমা যাপনে পুকুর সংলগ্ন মাঠের চুড়োয় ভ্যানগগের ছবির নিচে বসে থাকা সেই সব ক্লাইমেক্স মুহূর্তরা এল। ক্যাপ্টেন, পিকা, পার্থ, অনুপ,আমি। পরের দিন ঝাড় খাবে জেনেও পিকার বোলপুর ফেরা হল না। অথচ যাপনের এই ক্লাইমেক্সকে পাত্তা না দিয়েই ভাস্কর আমাকে পরামর্শ দিচ্ছেন,— ‘লিখুন: বন্ধু বন্ধু বন্ধু। / আমরা হতভাগা। / বন্ধুত্ব দিয়ে আমাদের সম্পর্ক শুরু হয় / শেষ হয় খিস্তিখেউরে। ’
❑ উদাহরনের পঙক্তিতে সঙ্গে আমার এলেন যারা,— রাণা রায়চৌধুরী, দেব মাইতি, আবীর সিংহ, শমীক শণ্ণিগ্রাহী, রবি ঠাকুর,সুমিতেশ সরকার, বিভাস রায়চৌধুরী, অনুপম মুখোপাধ্যায়, সমরেন্দ্র সেনগুপ্ত, শায়ক মুখোপাধ্যায়, সুকুমার রায়, ভাস্কর চক্রবর্তী।
❑ গদ্যটি পূর্ব প্রকাশিত, তাহলে ওই কথাই রইল, ২০১৪
আমাদের শৈশবখানা ❑ ঋপণ আর্য
Anyone who does anything to help a child is a hero to me. ” —Fred Rogers প্রায় দুই দশক ধরে আমার অন্যতম একটি শখ হল চাইল্ডহুড ফ...